
সমুদ্রের তীরে দাঁড়িয়ে, একেবারে কাছ থেকে দু—চোখ ভরে দেখছি আর অনুভব করছি, সমুদ্র কেন বারবার মানুষকে আকর্ষণ করে। আমি সাংবাদিক মানুষ। গত বছর রাজশাহীতে আমাদের সাংবাদিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পরবর্তী মিটিং কক্সবাজারে হওয়ার ঘোষণা আসে। সবাই উল্লোসিত হয়ে উঠে। আমিও উল্লোসিত হই। কারণ, মনের অজান্তেই কক্সবাজার ভ্রমনের ছবি স্মৃতির ক্যানভাসে ভেসে উঠেছিল সেদিন।
রাজশাহী মিটিং শেষে বাড়ি ফিরে কক্সবাজার ভ্রমনের কথা জানাই। এতে আমার স্ত্রী ও কন্যা খুবই খুশি হন। কারণ তাদেরকেও কক্সবাজার ভ্রমনে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমার স্ত্রী কন্যা শ^শুরালয়ে থাকায় তাদেরকে নিতে পারিনি।
সমুদ্রের নীল জলরাশি আর শোঁ শোঁ গর্জনের শব্দ আমি মুগ্ধ হয়ে অপলোক দৃষ্টিতে দেখতেছি। অপরূপ সুন্দর বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। আমরা সকলে অবগত আছি যে কক্সবাজার হচ্ছে সারা বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের ভিতর একটি, যেখানে শুধু বাংলাদেশ থেকে নয়, সারা বিশ্ব থেকে ভ্রমণের জন্য অনেক অতিথিরা আসেন। বিশ্বের দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক বালুময় সমুদ্র সৈকত, যা ১২০ কি. মি. পর্যন্ত বিস্তৃত।
ভ্রমন মানেই তো অচেনাকে চেনা, অজানাকে জানা। হাজার হাজার চেনা অচেনা পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত কক্সবাজারের সি বিচ গুলো। আমার সঙ্গীরা সবাই সমুদ্রে নেমে ঝাপাঝাপি করছে। আমার ইচ্ছা থাকা সত্বেও অসুস্থ্যতাজনিত কারণে সমুদ্রে নামা হয়নি। সমুদ্র সৈকতে অসংখ্য শিশু কিশোর। কেউ তার মায়ের সঙ্গে, কেউ তার বাবার সঙ্গে বালুকাময় অল্প পানিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। শিশুদের দেখে আমার কন্যার কথা মনে পড়ে গেলো। কিছুক্ষনের জন্য হলেও আনমনা হয়ে গেলাম। হাল্কা হওয়ার জন্য শিশুদের সঙ্গে কথা বলে সময় পার করছিলাম। শিশু, কিশোর, নারী—পুরুষ বৃদ্ধ—বৃদ্ধা সবাই যে যার মত আনন্দ করছে। উত্তাল সাগর সবাইকে ধরে রেখেছে এক অজানা সুঁতোর বাঁধনে।
পরদিন সকালে মেরিন ড্রাইভ রাস্তায় বেড়াতে বের হই। একদিকে সমুদ্র অন্যদিকে পাহাড়। সৃষ্টি কর্তার এক অপার নীলা। সাগরের পাশেই সমান্তরালভাবে গড়ে উঠেছে বিশাল পাহাড়। পৃথিবীর সর্ববৃহত ১২০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ রাস্তা সৌন্দর্যের এক নীলাভূমি।
কক্সবারের দর্শনীয় স্থান সমূহ— রেডিয়েন্ট ফিস ওয়ার্ল্ড, সমুদ্র সৈকত, মহেশখালী দ্বীপ, রামু রাবার বাগান, রামু বৌদ্ব বিহার, শামলাপুর সমুদ্র সৈকত, মারমেইড ইকো রিসোর্ট, শাহপরীর দ্বীপ, সোনাদিয়া দ্বীপ, কুতুবদিয়া দ্বীপ, হিমছড়ি ঝর্না, ইনানী বীচ, ডুলাহাজরা সাফারি পার্ক, হিম ছড়ি, ছেড়া দ্বীপ, সেন্টমার্টিন দ্বীপ, আদিনাথ মন্দির মহেশখালী।