
“সারা রাত শুয়ে থাকলাম কিন্তু ঘুমুতে পারলাম না।” গুলটু মামা বিছানা থেকে নামতে নামতে বললেন।
বিন্তি আর নোড়ন টেবিলে বসে পড়ছিল। মামার গলা শুনে তারা তার দিকে তাকাল। মামা বললেন, “ওরে ভাবিস নে শুয়ে থাকলেই ঘুম হয়। যার মাথায় রাজ্যের চিন্তা তার শুয়ে থাকলেই কী আর বসে থাকলেই কী? নিদ্রা দেওয়ার কি জো আছে!”
“আবার কী হল মামা?” বিন্তি বলল।
“কেন, ইবোলা ভাইরাসের কথা শুনিসনি? ওই যে আফ্রিকা মহাদেশে এক নতুন ধরনের অসুখ দেখা দিয়েছে, খুব জ্বর হয় আর রোগী মরে যায়। ইবোলা রোগীদের সেবা করছিলাম নাইজেরিয়ায়। তোর মার ডাক পেয়ে চলে এলাম। আমি নেই, না জানি কী হচ্ছে সেখানে!”
“ও ইবোলা ভাইরাস! তাই বলো। আমি ভাবলাম ঘুমের মধ্যে তো মামা নাক ডাকে না। তাহলে বিছানা থেকে মেশিনগানের মতো ফড়র ফড়র আওয়াজ আসছে কেন? এখন বুঝলাম তুমি আসলে ভাইরাস তাড়াচ্ছিলে।” পাশ থেকে নোড়ন ফোঁড়ন কাটল।
গুলটু মামা কিন্তু নোড়নের দিকে ফিরেও তাকালেন না। ভাবখানা ছেলেমানুষের কথায় কান দিতে নেই। তিনি বাথরুমের দিকে চললেন।
সকালে ওঠেই বিন্তি আর নোড়ন শুনেছে যে মাঝরাতে মামা এসেছে। ওদের পড়ার ঘরে একটা সিঙ্গেল খাট পাতা আছে। মামা এলে ওই খাটেই ঘুমায়। অন্যদিন বিন্তিরা এত তাড়াতাড়ি পড়ার ঘরে আসে না। মা তাড়া লাগানোর আগে তো নয়ই। কিন্তু গুলটু মামা এলে অন্য ব্যাপার। তিনি এমন সব গল্প বলেন যে শোনার জন্য ওরা তার আশপাশে ঘুরঘুর করে। আজ তাই সকাল—সকালই পড়ার ঘরে চলে এসেছে, ঘুম থেকে ওঠেই যেন মামা ওদের দেখতে পান।
ও, এত কথা বললাম, কিন্তু গুলটু মামার পরিচয়টাই তো দেওয়া হলো না। তিনি বিন্তি আর নোড়নের মামা। মা বড় আর গুলটু মামা ছোট। তার আসল নাম কিন্তু এটা নয়। তার আসল নাম অনবদ্য চৌধুরী। গুলটু নামটা বাবার দেওয়া। মামার একটু বাড়িয়ে বলার অভ্যেস। বানিয়ে বানিয়ে রাজ্যের আজব কথা বলেন। বাবা একদিন হাসতে হাসতে বললেন,“আজ থেকে আমরা তোমাকে গুলটু বলে ডাকব। যে ফেল করে সে ফেলটু আর যে গুল ছাড়ে সে গুলটু।” সেটাই তার ‘ব্র্যান্ড নেম’ হয়ে গিয়েছে। বিন্তিরাও তাকে গুলটু মামা বলেই ডাকে। মামা অবশ্য নামের এই ইতিহাস স্বীকার করেন না। তিনি বলেন যে, ছোটবেলায় তার গুলতি ছোড়ার অভ্যেস ছিল। এই গুলতি থেকেই তার নাম গুলটু হয়েছে। আর নামটাও বাবার দেওয়া নয়, বরং আপা মানে বিন্তি আর নোড়নের মায়ের দেওয়া।
কদিন পর অঙ্ক পরীক্ষা। কোনটা সমকোণ আর কোনটা সূক্ষ্মকোণ বুঝতে পারছিল না বিন্তি। নোড়ন তাকে বুঝিয়ে দিচ্ছিল। গোসল সেরে মামা ঢুকলেন। তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে বললেন, “জ্যামিতি পড়ছিস বুঝি? বাঃ খুব ভালো। জ্যামিতি খুব দরকার, ওটা খুব কাজে লাগে।”
“কী কাজে লাগে মামা?”
“ধর, টেবিল—চেয়ার বানাতে, ছবি আঁকতে, এমনকি, এমনকি শিকারে গেলেও কোণের জ্ঞান থাকা দরকার।”
“শিকারে গেলে আবার কোণের জ্ঞান লাগবে কেন মামা? বন্দুকের নল তাক করে ট্রিগার টিপে দিলেই তো হলো। গুলি সোজা সরলরেখার মতো গিয়ে শিকারের গায়ে বিঁধবে।” নোড়ন বলে।
“তোদের মতো কম জানা লোকদের নিয়ে ওই তো বিপদ। সাধে কি আর বলে ‘মেন ইজ মরটাল’, থুড়ি ঐ যে কী বলে, অল্প বিদ্যা প্রলয়ংকরী।”
“প্রলয়ংকরী না মামা, ভয়ংকরী।”
“ওই হলো, যাহা বাহান্ন তাহাই বিরাশি।”
“মামাকে বলতে দাও ভাইয়া। ডিস্টার্ব করো না। কথাটা তো শেষ করতে দাও,” বিন্তি অনুরোধ করল।
“শোন, স্থূলকোণ—সূক্ষ্মকোণ এসব ভালো বুঝতাম বলেই না আমি একবার একটা মা হরিণকে বাঁচাতে পেরেছিলাম, আর মারতে পেরেছিলাম একটা মস্ত বড় রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে।”
“তাই নাকি মামা? কখন, কোথায়?” বিন্তি আর নোড়নের তর সয় না।
“রোসো, রোসো। অত তাড়া কী? মামা তো আর পালিয়ে যাচ্ছে না। চল্, আগে নাশতা করি, তারপর বলছি।”
নাশতার পর চা খেতে খেতে গুলটু মামা শুরু করলেন তার শিকারকাহিনি। বিন্তি আর নোড়নের সঙ্গে মা—ও শুনতে বসলেন।
“আইলার কথা শুনেছিস তোরা?”
অবন্তি আর নোড়ন পরস্পরের দিকে তাকায়। তারপর ডানে—বামে ঘাড় নাড়ে।
“না শোনারই কথা। তোরা তখন ছোট। বঙ্গোপসাগরে আইলা নামের একটা ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় জন্ম নেয়। তা দক্ষিণবঙ্গে আঘাত করে। ওই ঘূর্ণিঝড়ে খুলনা আর বরিশাল বিভাগের অনেক ক্ষতি হয়। বাড়িঘর ভেঙ্গে যায়। জমির ফসল নষ্ট হয়। কিছু মানুষও মারা যায়। সরকার আর দেশি—বিদেশি অনেক মানুষ ওই এলাকায় ত্রাণকাজ করতে যায়। এমন একটা দলে আমিও গিয়েছিলাম। আমরা কাজ করেছিলাম সাতক্ষীরা জেলায়।”
“বুঝেছি, ওখান থেকেই তুমি সুন্দরবন গেলে, তাই না?” নোড়ন বলে। ও যে কত কিছু জানে সুযোগ পেলেই তা জাহির করতে চেষ্টা করে।
“ঠিক ধরেছিস। তবে সুন্দরবনকে কিন্তু ওখানকার লোকজন এই নামে ডাকে না। ওরা ডাকে বাঁদাবন বলে। আমাদের এলাকাটা বনের ধার ঘেঁষে। দু পা বাড়ালেই জঙ্গলের সীমানা। মাঝে মাঝে বাঘের ডাকও শোনা যায়। মাসখানেক পর শুনলাম যে রাতে গ্রামে বাঘ ঢুকেছিল, একটা গরু নিয়ে গেছে। ঘটনাটা নিয়ে অবশ্য কেউ তেমন মাথা ঘামাল না। বুঝলাম এরকম ঘটনা আগেও ঘটেছে। বাঘ প্রায়ই গরু—ছাগল নিয়ে যায়। কিন্তু টনক নড়ল কয়েক দিন পর। এক বৃদ্ধ রাতে ঘর থেকে উঠানে বের হয়েছিলেন। তিনি আর ঘরে ফিরে আসেননি। পরদিন তার লাশ পাওয়া গেল খালের ধারে। বাঘ অর্ধেক খেয়ে রেখে গেছে। জঙ্গল পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়নি। এবারে গ্রামবাসী চিন্তিত হলো, পরামর্শ করতে বসল কী করা যায়। বাঘটাকে মারতে পারলেই মুশকিল আসান হয়। কিন্তু বিড়ালের গলায় থুড়ি বাঘের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? পচাব্দী গাজি বেঁচে থাকলে তাকে অনুরোধ করা যেত। কিন্তু তিনি তো আর বেঁচে নেই।”
“পচাব্দী গাজি কে মামা?”
“একজন খুব বড় শিকারি।”
“জিম করবেটের মতো?” নোড়ন জিজ্ঞেস করে।
“হ্যাঁ’ ইচ্ছে করলে তাঁকে সুন্দরবনের জিম করবেট বলতে পারিস।”
“তারপর কী হলো মামা?”
“আমি বললাম, বাঘটা আমিই মারতে পারি, কিন্তু সঙ্গে তো বন্দুক নেই। ঘূর্ণিঝড়ের কাজে এসেছি বলে সঙ্গে আনিনি। রিভলবার একটা আছে, তবে তা দিয়ে তো বাঘ মারা যাবে না। তখন গায়ের মেম্বারসাহেব বললেন যে তার একটা বন্দুক আছে, তিনি ওটা ধার দেবেন। তাছাড়া তিনি দুজন পেয়াদা আর একজন বাওয়ালীকেও দেবেন। বাওয়ালী কে জানিস তো? সুন্দরবনে ঢুকে যারা গাছ থেকে কাঠ আর মৌচাক থেকে মধু নিয়ে আসে। ঠিক হলো পরদিন ওই তিনজনকে নিয়ে জঙ্গল রেকি করতে যাব। বন্দুকটাও ওই সময় আসবে।
পরদিন খুব সকালেই মেম্বরসাহেব এলেন। সঙ্গে বন্দুক, পেয়াদা আর বাওয়ালী। অস্ত্রটা দেখে হতাশ হলাম। ওটা আসলে বন্দুক নয়, শটগান। বন্দুকের ব্যারেল অনেক লম্বা হয়, ওটা দিয়ে দূর থেকেও গুলি করা যায়। শটগানের ব্যারেল একটু খাট আর মোটা। ওটা দিয়ে কাছ থেকে গুলি করতে হয়। কিন্তু বাঘকে তো কাছ থেকে গুলি করা যাবে না, খুবই বিপজ্জনক হতে পারে সেটা। মনটা দমে গেলেও জঙ্গলে যাওয়া বাদ দিলাম না। তাহলে লোকে হাসাহাসি করতে পারে। আমরা চারজন হেলিকপ্টারে করে রওনা দিলাম।”
“ও মা তুই হেলিকপ্টারেও চড়েছিস?” মা গালে হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন।
“হেলিকপ্টার নিয়ে তোমরা নামবে কোথায়? জঙ্গলে তো হেলিপ্যাড নেই।” নোড়ন আবার তার জ্ঞান ফলায়।
“হেলিপ্যাড থাকলেই কি হেলিকপ্টার নিয়ে যেতাম ভেবেছিস? রোটরের যা বেমক্কা আওয়াজ! সব প্রাণি পালিয়ে যাবে না? শিকার করা তো তখন শিকেয় উঠবে।”
“তাহলে?”
“এ হেলিকপ্টার সে হেলিকপ্টার নয়। এটা আসলে ভাড়া দিয়ে সাইকেলে করে যাওয়া। চালক সাইকেল চালায়, আর যাত্রী পিছনের ক্যারিয়ারে বসে। বিনিময়ে চালককে টাকা দিতে হয়। অনেকটা রিকশা ভাড়ার মতন। সাতক্ষীরা অঞ্চলে এটাকেই ওরা হেলিকপ্টার বলে।”
“অ্যাঁ?” নোড়নের চোখ কপালে ওঠে।
“হ্যাঁ, যে এলাকার যে রীতি। যাক, যা বলছিলাম, হেলিকপ্টার থুড়ি সাইকেলে চেপে মাইল দুই যাবার পর রাস্তা ফুরিয়ে গেল। এরপর এগোতে হবে পায়ে হেঁটে, জমির আইল দিয়ে। আরও মাইলখানেক যেতে বন শুরু। প্রথমে ঝোপঝাড়, তারপর হালকা বন। একটা থেকে আরেকটা গাছ বেশ দূরে । কিন্তু এই ফাঁকা ভাবটা বেশিক্ষণ থাকল না। মিনিট দশেক পরেই শুরু হলো ঘন বন। এরই মধ্যে বানরের কিচির—মিচির শুনতে পেলাম। গাছের ডাল থেকে ঝুলতে দেখলাম শঙ্খচূড় মানে কেউটে সাপকে। কিন্তু হরিণ দেখতে পেলাম না। সঙ্গে থাকা বাওয়ালী বলল, আইলায় অনেক হরিণ মারা যাওয়ায় হরিণের সংখ্যা কমে গিয়েছে। সে জন্যেই হরিণ চোখে পড়ছে না। হরিণ সুন্দরবনের বাঘের প্রধান খাবার। ওদের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণেই বোধহয় বাঘটা খাবারের খোঁজে গ্রামে হানা দিচ্ছে।
যা—ই হোক, ক্রমে গভীর বনে ঢুকে পড়লাম আমরা। পায়ের নিচে নোনা মাটি। মাথার ওপরে বিশাল বিশাল সব গাছ। দু হাতে গোল গোল গোলপাতা সরিয়ে পথ করে চলেছি…”
“মামা তুমি গুল মারছো।” নোড়ন বলল।
“গুল বলছিস কেন?”
“গোলপাতার আকার মোটেও গোল নয়।”
“হুঁ, তুই বেশি জানিস। গেছিস কখনো সুন্দরবন?”
“আমাদের ভূগোল বইয়েই লেখা আছে নামে গোলপাতা হলেও আসলে তা গোল নয়।”
“বাকিটা তবে তোর ভূগোল বই থেকেই শুনে নিস। আমার বলা এখানেই শেষ।” কৃত্রিম রোষ দেখিয়ে মামা চুপ করলেন।
“ওরে তোরা গোলমাল করিস না। গুলটুকে বলতে দে। শুনতে তো ভালোই লাগছে।” মা বললেন।
“বলো না মামা।” বিন্তি আবদার করে।
“ঠিক আছে, বিন্তি অনুরোধ করল বলে বলছি। ফের গোল বাঁধালে কিন্তু গল্প বলা পাকাপাকি বন্ধ।” এ বলে মামা আবার শুরু করলেন।
“হঠাৎই একটা হরিণের ডাক এল। লোকে বিপদে পড়লে যেরকম ডাকে সেরকম ডাক ওটা। বাওয়ালী সতর্ক হয়ে উঠল। ঠোঁটে আঙুল রেখে আমাদের আওয়াজ করতে মানা করল। আমরা পা টিপে টিপে তার পিছনে পিছনে চললাম। কয়েক গজ এগিয়েই গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেল। আমরা এর জন্য তৈরি ছিলাম না মোটেও। ইচ্ছে ছিল প্রথমে এলাকাটা রেকি করে জুতসই কোনো গাছে মাচা বাঁধব। তারপর একটা বাছুর বা ছাগলকে টোপ বানিয়ে বাঘ শিকার করব। কিন্তু যা দেখলাম তা এ পরিকল্পনার সঙ্গে একেবারেই মেলে না।”
“কী দেখলে মামা?”
“গোলপাতার ফাঁকফোকর দিয়ে দেখলাম বিশ—পঁচিশ মিটার দূরে একটা হরিণীর পা কামড়ে ধরে আছে একটা মস্ত বড় রয়েল বেঙ্গল টাইগার। হরিণীটা মুক্তি পাবার জন্য যারপরনাই লাফাচ্ছে। কিন্তু ছুটতে পারছে না। আর বাঘটার পিছনেই একটা ছোট হরিণ ভয়ে কাঁপছে। বোধহয় হরিণীটারই বাচ্চা হবে।
বাওয়ালী ইঙ্গিত করলো চুপিসারে পিছিয়ে যেতে। এত কাছাকাছি মাটিতে দাঁড়িয়ে বাঘের সঙ্গে লড়তে যাওয়া বৃথা। মাঝখানে যা দূরত্ব তা পার হতে একটা বাঘের তিনটা লাফও লাগবে না। আমি পড়লাম সমস্যায়। কী করি এখন?”
“সমস্যারই তো কথা। এতগুলো লোক পালাতে গেলেও তো আওয়াজ হবে। টের পেয়ে বাঘ যদি হামলা করে বসে?” উৎকণ্ঠিত হয়ে মা বললেন।
“না আপা সে সমস্যা না। পালিয়েই যদি যাব তাহলে আর এই গুলটু শর্মা থুড়ি অনবদ্য চৌধুরী কেন? সমস্যা অন্য জায়গায়। ভাবছিলাম গুলিটা করব কীভাবে। হরিণ, বাঘ আর হরিণছানাটা যে আমাদের সামনাসামনি ঠিক একই লাইনে। গুলি করলে তো আগে হরিণীর গায়েই লাগবে। পিছনে আবার বাচ্চা দাঁড়িয়ে। কীভাবে ওদের দুজনকে বাঁচিয়ে মাঝখানের বাঘটাকে গুলি করা যায় ভাবছিলাম আর চারদিকে নজর রাখছিলাম। দেখলাম পাশেই একটা পুরানো উঁচু গাছ। কয়েকটা বড় ডাল চারপাশে ছড়ানো। চট করেই বুদ্ধি খুলে গেল। শটগানটা ওপরের দিকে তাক করে দিলাম গুলি ছুড়ে।”
“বাঘ তাড়াতে শেষ পর্যন্ত ফাঁকা গুলি করলে মামা?”
“তুই কি আমাকে পুলিশ ভেবেছিস যে ফাঁকা গুলির আওয়াজ করব? আমি যা করেছি, ভেবেচিন্তেই করেছি, একেবারে জ্যামিতিক হিসেব—নিকেশ করে। বাঘটার ঠিক ওপরে যে ডালটা ছিল গুলি করলাম ওটার গোড়ায়। বাঘটা কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিশাল ডালটা ভেঙ্গে তার পিঠে পড়ল। মেরুদণ্ড গুঁড়ো হয়ে তার কম্ম সারা। হরিণ আর তার ছানার গায়ে কিন্তু একটা পাতার আঁচড়ও লাগেনি। ওরা দৌড়ে পালাল। তবে হ্যাঁ, যাবার আগে আমার দিকে তাকিয়ে একটা ধন্যবাদের চাহনি দিয়ে গেল।”
“বাব্বা! তুই পারিসও বটে।” নিজের ছোট ভাইয়ের দিকে প্রশংসার চোখে তাকিয়ে মা বললেন।
“দেখলি তো স্কুলে পড়া জ্যামিতির জ্ঞান কেমন করে শিকারেও কাজে লেগে গেল? তাই বলছিলাম, জ্যামিতিটা ভালো করে শেখ, উপকারে আসবে।”
নোড়ন মুখ খুলল, সে বোধ হয় কিছু বলতে চাচ্ছিল। কিন্তু গুলটু মামা তাকে সুযোগ দিলেন না। “এই রে নয়টা বেজে গেছে। যাই টিভির খবরটা দেখে আসি। ওদিকে আবার ইবোলা ভাইরাসের না জানি কী হলো।” বলেই মামা দ্রুত ড্রয়িংরুমের দিকে চলে গেলেন।