
পৃথিবীর প্রত্যেক দেশ ও জাতির রয়েছে নিজস্ব ভাষা। বহু রক্ত, সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে এ ভাষা অর্জিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়। এ ভাষা অর্জন ও প্রতিষ্ঠায় ভাষা শহীদদের অবদান অতুলনীয়।
ফেব্রয়ারী মাসের ২১ তারিখ, ১৯৫২ সাল, ৮ই ফাল্গুন। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের সাথে অসাম্প্রদায়িক আচরণ ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে পশ্চিম পাকিস্তানীরা প্রথমে ভাষার প্রতি আঘাত হানে। তারা ঘোষনা করে বাংলা নয় বরং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা। ঘোষনা শুনে বাঙালী প্রতিবাদে ফেটে পরে। তাদের এই প্রতিবাদে বাংলার আকাশ বাতাশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাংলার মানুষ ১৪৪ ধারা আইন ভঙ্গ করে রাজপথে মিছিল করে। অজ¯্র জনতার এ মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। শহীদ হয় রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার সহ নাম না জানা আরও অনেকে। এরাই ভাষা শহীদ হিসেবে পরিচিত। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা প্রতিবছর ২১শে ফেব্রয়ারীকে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করি।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে আমরা শহীদ দিবস পেয়েছি। এ দিবসকে আন্তর্জাতিক ভাবে মূল্যায়িত করার জন্য কানাডায় বসবাসরত যে দুজন প্রবাসী বাঙালীর অবদান অপরিসিম। তারা হলেন আব্দুস সালাম ও রফিকুল ইসলাম। তারা কানাডার বহুভাষী ও ভাষাপ্রেমি একটি সং¯’ার উদ্দ্যেগে কফি আনানকে বার বার চিঠি লেখেন এবং অবশেষে ১৯৯৯ সালের ইউনেস্কোর এক সাধারণ অধিবেশনে শহিদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষনা করা হয়। এ ঘোষনার মাধ্যমে বাঙালী জাতি আজ গর্বিত।
বায়ান্ন-র একুশে ফেব্রুয়ারী চেতনার পথ ধরেই একাত্তরে আমরা স্বাধীনতা লাভ করি। ২১শে ফেব্রুয়ারী ভাষা আন্দলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তারাই আমাদের স্বাধীনতার স্বপ্নকে বাস্তব রুপ দিয়েছে। তাদের মহান আত্মত্যাগের ফলেই বাঙালী জাতি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র লাভ করেছে। তাই একুশে ফেব্রুয়ারী ও ভাষা শহীদদের আমরা ভুলতে পারি না। একারনের দেশের মানুষ বার বার গায়-
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারী-
আমি কি ভুলিতে পারি।”
ভাষা শহীদদের রক্তের প্রেরণায় আমরা যে দিবসটি অর্জন করেছি তা আজ বৈশিক অঙ্গনে ¯’ান করে নিয়েছে। তাই শহীদদের এ অবদান চিরস্মরনীয়। তাদরে স্মৃতি লালন করে আমরা বাংলাকে সমৃদ্ধ বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব এবং শহীদদের শ্রদ্ধা জানাব। তাদের শ্রদ্ধায় আজ অজ¯্র জনতার কণ্ঠে উ”চারিত হ”েছ।
সালাম সালাম হাজার সালাম
শহীদ ভাইয়ের স্বরণে-
আমার হৃদয় রেখে যেতে চায় তাদের স্মৃতি চরণে।