
অন্ধকারে একে অপরকে দেখছি না। ভয়ে শরীর কাঁটা দিচ্ছে। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। আমাদের সবার সঙ্গে এগারো ব্যাটারীর টর্চ আছে কিন্তু জ্বালানো যাবে না। পাতলাদার কড়া নির্দেশ। অপরদিকে গভীর জঙ্গলের মশারা আমাদের উপর দাঁতে দাঁত লাগিয়ে কামড়াতে শুরু করেছে। এ ব্যাপারেও পাতলাদার মহানির্দেশ, মশা আছে যখন কামড়াবে কিন্তু মশার গায়ে হাত দেয়া যাবে না।
কেনো? মশারা কি তোমার ঘনিষ্ট কুটুম না আত্মীয়? প্রতিবাদ করে সাগর। পাতলাদা দাঁতে ঘষে-তোকে শুধু শুধু ছাগল ডাকি নারে সাগর। আমি কী করলাম? মুখ ভেংচায় পাতলাদা, আমি কী করলাম? অন্ধকার জঙ্গলে মশার নরম শরীরে তোর গাড়ল হাতের থাপ্পর পড়লে কী উৎপাদিত হবে?কী তাজ্জব কথা, মশার নরম শরীরে থাপ্পর মারলে কী উৎপাদিত হবে, আমরা কেমন করে বলবো? কিন্তু সবাই মুখে কুলুপ এটে বসে আছি। কী উত্তর দেবো আর পাতলাদার লম্বা বখতিয়ার খিড়জির লম্বা হাতের বিরাশি সিক্কার চর খাবো নাকি? পাতালাদা বসে আছে ডান হাতল ভাঙ্গা বিখ্যাত চেয়ারে। যে চেয়ারের পিছনের বাম দিকের পায়া আধভাঙ্গা হয়ে আছে একুশ বছর ধরে, যে কেনো সময়ে পাতলাদা চেয়ার সহ …।
তোরা সামান্য এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলি না? সঙ্গে সঙ্গে হাত তোলে ঈগল, পাতালাদা আমি বলতে পারি।
বল।
বিদ্যুৎ। বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। পাতলাদা ত্রিশ সেকেন্ড ওর দিকে তাকিয়ে থেকে বললে, তোকে এক থাপ্পরে চা জব্বরপুরে পাঠিয়ে দেয়া দরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে! উৎপাদন হবে শব্দ।
তাইতো- আমরা এক সঙ্গে বলি।
আর শব্দ উৎপাদিত হলে আশেপাশে ভুত থাকবে?
আমরা চারজন ঘাড় নাড়ি- থাকবে না। ভুত মামারা দ্রুত পালিয়ে যাবে।
আর একবার পালালে তাদের পাওয়া যাবে না। পাওয়া না গেলে আমরা ভুত ধরতে পারবো না। ধরতে না পারলে ভুতের ব্যবসাও হবে না- পাতলাদা এক সঙ্গে এতো কথা বলে থামে।
কি আর করা! আমরা- আমি ভোমলা, আমাকে তো সবাই চেনো। পাতলাদা’র সঙ্গে সেই শুরুর শুরু থেকেই আছি। আর আছে ঈগল, বরিশালের ছাগল, সরি সাগর। মাঝে মাঝে এখান সেখান থেকে লোটা কম্বল এসে জুটে যায়। যেমন আজ এই ভূত অভিযানে আমাদের সঙ্গে আরও দুজন যোগ দিয়েছে। একজন পাতলাদার ভাগ্নে মি.আকুল। আকুল মানে ইনি সব সময়ে আকুল হয়ে থাকেন। অন্যজন সাগরের বন্ধু বরিশাল থেকে এসেছেন- মি ব্যাকুল। আকুল আর ব্যাকুল মিলে আমরা গহীন জঙ্গলে গহীন রাতে ছয়জন।
কয়েকদিন জাম্বুরা দেশে বেড়িয়ে এসে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, সাত সকালে সাগর হাজির- ভোমলা তোকে পাতলাদা ডাকছে।
আমি অবাক, জিজ্ঞেস করি- দেশের কাক পক্ষিও জানে না, আমি দেশে এসেছি। পাতলাদা জানলো কেমন করে?
আমি জানি না। তুই যাবি কি না বল।
সাগরের তাড়া দেখে জিজ্ঞেস করলাম- ঘটনা কী?
ঘটনা ফটনা আমি কিচ্ছু জানি না। পাতলাদা তিনদিন ধরে খুব গম্ভীর হয়ে কি সব ভাবছিল। খাওয়া দাওয়াও করছিল না। আজ সকালে ওঠে আমাকে খবর দিয়েছে, অন্যদেরকেও খবর দিয়েছে। মনে হয়- কোনো জটিল ঘটনা আছে। তুই চল আমার সঙ্গে।
এতো সাধাসাধি করলে না গেলে ভালো দেখায় না। খুব কষ্ট করে সাগরের সঙ্গে পাতলাদার বাসায় গেলাম। বাসায় গিয়ে মহাঘটনা। ঈগলু বসে আছে পাতলাদার হাতলের কাছে। আকুল এবং ব্যাকুলও আছে, তবে খাটের উপরে নয় নীচে পাটির উপর।
ভোমলা, আমিতো অনেক বছর বেকার থাকলাম। আর বেকার থাকতে চাই না। নতুন কাজ করতে চাই- আমাকে দেখে হাতল ভাঙ্গা চেয়ার নাড়িয়ে হাই তুলতে তুলতে বলে পাতলাদা।
আমিও সঙ্গে সঙ্গে তাল মিলাই- আমরাও চাই, আপনি কোনো বড় কাজে ঝাঁপিয়ে পড়–ন। আপনার সঙ্গে আমি- আমরাও আছি। সত্যি কথা বলতে কী, আপনাকে বেকার থাকা মানায় না।
গুড, ভেরী গুড- পাতলাদা তার খিলজি মার্কা হাত দিয়ে আমার পিঠে চাপর মারতে যায়, আমি দ্রুত সরে যাই। চাপর লাগে মি. ব্যাকুলের পিঠে। কোৎ করে মি. ব্যাকুল প্রায় শুয়ে পরে আর কি! আমরা মুখ বন্ধ করে কুৎ কুৎ হাসি। এই সময়ে জোরে দাঁত বের করে হাসলে পাতলাদা মাইন্ড করে। সুতরাং আমরা দাঁত বের না করে হাসলাম। ইচ্ছে করে মুখ বন্ধ করে কুৎ কুৎ এই গল্প যারা পাড়ছো, তারও হাসতে পারো।
আমি ঠিক করেছি আর বেকার থাকবো না-পাতলাদা বলে। আমরা তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি। নিশ্চয়ই একটা প্লানও তৈরি করেছে। একটু সময় নিয়ে ঘুড়ির সুতো ছাড়ার মতো করে ছাড়বে, আর আমরা চাখবো ঘটনা বা প্লানটাকে। বার বার প্রতিবারইতো এই একই ঘটনা ঘটে আসছে।
কিরে, তোরা হুতোমপেঁচার মুখ করে বসে আছিস, কিছু বলছিস না যে!
কী বলবো, তুমিই বলো- নিরীহভাবে বলে ঈগল।
ডান হাতে বাম কান চুলকায় সাগর-তুমি তোমার পকেট থেকে আইডিয়া না ছাড়লে, আমরা কথা বলি কিসের উপর?
আমি চুপ করে আছি। আমার দিকে ত্যাড়া চোখে তাকায় পাতলাদা- কিরে, ভোমলা তুই চুপ কেনো?
আমি ওদের সঙ্গে একমত- মিনমিন শব্দে বলি। তোমার মনে ভেতরে কী আছে আমরা কি করে জানবো? আগে তুৃমি তোমার ইয়ে আমাদের বলো-
পাতলাদা মি আকুল আর ব্যাকুলের দিকে এক পলক তাকিয়ে গভীর একটা দীর্ঘশ্বাস নিলে দুই চক্ষু মুদ্রিত করে বসে আছে। মনে হচ্ছে তার হাতে পুকুরে ফেলা বড়শি। বড় কোনো মাছ এখনই টান দেবে বড়শিতে, অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পাতলাদা। সময় দুপুরের ঝা ঝা কা কা রোদ। বাইরে বেরুলে মাথার চান্দি ফেটে যেতে পারে। সাতজন মানুষের জন্য ছোট্ট একটা ফ্যান ঘুরতেছে মাথার উপর, গরম কমছে না।
আমি ভুত পালবো।
আমি তাকাই সাগরের দিকে, সাগর তাকায় ঈগলের দিকে। তিনজনে তাকাই একে সঙ্গে। আমাদের চার জোড়া চোখের দৃষ্টিতে বিদ্যুৎ খেলে যায়। আমরা বুঝে উঠতে পারছি না, পাতলাদা কি বলিলো? ভূত পালবো বলিলো! কথাটা কি ঠিক বলিয়াছে? নাকি আমরা শুনিতে ভুল করিয়াছি?
আমাদের মৌনতা লক্ষ্য করে পাতলাদা আবার মুখ খোলে- আমার আইডিয়া তোরা বুঝতে পারিসনি, না?
আমরা তিন জনে এক সঙ্গে না- বোধক মাথা নাড়াই। মি আকুল আর ব্যাকুল ভয়ানক বোকা হয় আমাদের কারসাজি দেখছে। মনে মনে ভাবছে পাগলের কোন কারখানায় আসিয়া পড়িলাম?
না, তোদের দোষ দেবো না। ব্যাপারটা নিয়ে আমি যখন চীনের ড. ইয়াং পাং নাং’য়ের সঙ্গে কথা বলেছি, প্রথমটায় সেও তোদের মতো খামোশ হয়েছিল বত্রিশ সেকেন্ড। অতোবড় একজন ড. বিখ্যাত পন্ডিত- জগতজোড়া নাম, যে কোনো সময়ে অস্কার পুরস্কার পেতে পারে, সেই লোকই যখন বোঝেনি, তখন তোদের মতো বিটকিরিদের আর কী বলবো? আমি বলেছি ভূত পালবো। বুঝলি? ভূত পালবো। কানে গেছে এখন?
ভূত পালবে তুমি? কড়া চোখে তাকায় সাগর। মাঝে মাঝে সাগরকে খুব ভালো লাগে। সরাসরি কথা বলে ভয় ডর না করে। ভূত তুমি দেখেছো? ভূত যে পালবে- পাবে কোথায়? ভূতের আ-া আছে, আ-া তা দিয়ে ভুত বানাবে? আর যদি একটটা ভুত হাতের কাছে পাও, তোমাকে আস্ত রাখবে? পলকে তোমারই ঘাড় গর্দান মটকে দেবে না- নিশ্চয়তা তোমাকে কে দেবে?
সাগরের ভয়ংকর কথার পর পাতলাদা সবার দিকে এক পলক তাকিয়ে হঠাৎ হো হো হো করে হাসতে থাকে। আমরা অবাক। বিস্মিত। পাতলাদার কী হলো? সবাইকে অবাক করে পাতলাদা হেসেই যাচ্ছে। হাসতে হাসতে পাতলাদা হাসি থামিয়ে বুক ভরে দম নেয়- ছাগল, সরি, সাগর- তোকে আমি যতো গো মূর্খ ভেবেছিলাম তুই আসলে অতোটা গো মূর্খ না। কিছুটা হলেও, এই ধর এক গ্রাম পরিমান হলেও ঘিলু আছে মাথায়। না থাকলে চট করে এতোসব ভুত বিষযক প্রশ্ন করতে পারতি না। তোর মতো আমাকে চীনের বৈজ্ঞানিক মি. ইয়াং পাং নাং’ও ঠিক এই প্রশ্ন করেছিল।
তুমি কী উত্তর দিলে?
আমি বললাম-আমাদের দেশে গভীর জংগল আছে, সেখানে ভুতেরা বাস করে। সেখান থেকে ভুত ধরে ধরে পলিথিনের ব্যাগে ভরে বাড়ি নিয়ে আসবো। বাড়ি এনে ওদের সঙ্গে কথা বলবো। আমার এক বন্ধু আছে, মাদাগাসকারে থাকে, তার একটা ভুতের খামার আছে। যেমন আছে মহিষ, কুমির, গরুর খামার, ঠিক সেইভাবে বানিয়েছে ভুতের খামার। প্রতিদিন দেশ বিদেশ থেকে ক্রেতারা এসে ভুত কিনে নিয়ে যায়। একেকটা ভুতের দাম একশো ডলার, দুইশো ডলার, তিনশো ডলার। বুঝতে পেরেছিস- একটা মাত্র ভুত বিক্রি করতে পারলে কতো টাকা আয় হবে আমাদের? দাঁড়া- আমি দেখাচ্ছি, পাতলাদা ব্যস্ত হয়ে তার জোব্বার পকেট হাতড়িয়ে ক্যালকুলেটর বের করে হিসাব করতে থাকে। হিসাব শেষে জানায়- একটা ভুত বিক্রি করতে পারলে আমাদের প্রায় আশি হাজার টাকা লাভ থাকবে।
ওরা ভূত কিনে কী করে? জানতে চায় ঈগল।
ওরা ভুতের ফ্রাই খায়। গরম গরম তেলে ভেজে কাঁচা লবন দিয়ে খায়। ভুত ফ্রাইতো ইউরোপ, মার্কিন মুল্লুকে খুব জনপ্রিয় খাবার। তোরা দেখি কোনো খবরই রাখিস না। নাহ তোদের নিয়ে আর পারা গেলো না- খুব বিরক্ত আমাদের মহান পাতলাদা আমাদের জ্ঞান হীনতায়।
পাতলাদা- এতোক্ষণে হাত তোলো মি ব্যাকুল। আমি একটা তথ্য দিতে চাই।
দাও- পাতলাদা বিরষ মুখে বলে।
আমার বড় ভাইয়ের বড় শ্বশুরের জামাইয়ের নাতির ঘরের মেয়ের ছেলে মি খাম্বা থাকে মার্কিন দেশে। গত বছর বেড়াতে এসেছিল। সে আমাকে বলেছে, ওরা ওই দেশে নিয়মিত ভুতের ফ্রাই খায়। ভুতের ফ্রাই নাকি তেলে ডিম ভাজার মতো- টাটকা করে ভাজি করলে খেতে ভালো লাগে।
পাতলাদার ঘাড় মোটা হয়ে গেলো, শুনেছিস ইঁদুর পোষার দল। গ্রামের একটা ছেলে পর্যন্ত জানে মার্কিনের লোকেরা ভুত ফ্রাই খায়। আর তোরা ঢাকা শহরে থেকেও কিচ্চু জানিস না- ছ্যা ছ্যা..।
বুঝলাম, এখন আমাদের কী করতে হবে?
কী আর করবি? আমার ভুত ফার্মে জয়েন করে ভুত ধরবি। ধরা ভুত বিক্রি করবি। টাকা পয়সা আয় করবি- খাবি দাবি আর ঘুমাবি। কী পারবি না?
আমি ভুতরে ভয়ানক ভয় পাই-গলা কেঁপে ওঠে ঈগলের। আমি তোমার ফার্মে জয়েন করবো না। আমাকে মাফ করো পাতলাদা।
তুই যে আমার ভুত ফার্মে জয়েন করতে পারবি না, সেটা আমি আগেই জানতাম। কারণ, তুই একটা ভিতুর আ-া। কিন্তু আমার মানুষতো লাগবে, তাই মি ব্যাকুল আর আকুলকে আনিয়ে রেখেছি। জানিস, ওরা গ্রামের ছেলে, ভুতকে ডরায় না- বলতে বলতে পাতলাদা হাতল ভাঙ্গা চেয়ার ছেড়ে অনেক কষ্টে দাঁড়ায়, বরং ভুত ওদের দেখে ভয পায়। মি ব্যাকুল তোমার ভুতের ঘটনাটা বলোতো।
আমি এক অন্ধকার রাতে নানা বাড়ি থেকে আমাদের বাড়ি আসছিলাম। আমার হাতে নানার দেয়া একটা ইলিশ মাছ। হঠাৎ শুনি আমার পিছনে কে যেন আসছে। আমি বুঝতে পেরেছি- ভুত আমার পিছু নিয়েছ্ েকারণ ভুতেরা ইলিশ মাছ খুব পছন্দ করে। আমি সামনে তাকিয়ে হাঁটছি। ভুতটা একেবারে আমার কানের উপর নিঃশ্বাস ফেলছে, আর বলছে- আমাকে এক টুকরা ইলিশ মাছ দিবা?
তোমার ভয় করেনি? দুপুরের রোদে পাতলাদা’র ঘরের মধ্যে বসে ভয়ে কাঁপছে ঈগল।
না, আমার ভয় করবে কেনো? আমি তো ছোটবেলা থেকে ওদের সঙ্গে গল্প করেছি। ওরা আমাকে চেনে। তবে ওদের সঙ্গে বেশি বাড়াবাড়ি করলে ঘাড় মটকে রক্ত খায়। কিন্তু আমাকে কিছু করতে পারবে না, কারণ আমার নানা ভুতের ওস্তাদ মহাজন। নানা আমাকে ভুত বশিকরণ মন্ত্র শিখিয়েছে। আমি সেই মন্ত্রটা পড়ে বুকে ফুক দিয়ে বাড়ি চলে এলাম। ভুত বাড়ির ভিতরে ঢুকলো না। আমি দরজায় দাঁড়িয়ে ওকে জিজ্ঞেস করলাম- তোর নাম কী?
আঁমার নাঁম কাঁকাঁ কাঁ।
তো কাঁকাঁ কাঁ, তুমি এখানে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করো। আমি তোমার জন্য মাছ ভাজা নিয়ে আসছি। ঘরে এসে মাকে মাছ দিলে মা রান্না করলে আমি এক টুকরো মাছ, তিন টুকরো আলু, লবন আর কাঁচা মরিচ সহ একটা প্লেটে ভাত নিয়ে এলাম দরজায়। দেখি মি ভুত কাঁকাঁ কাঁ দাঁড়িয়ে আছে লম্বা তালগাছের মতো। আমার হাতে মাছ দেখে এক ঝটকায় প্লেট টেনে নিয়ে বললো- ট্যাঁংক ইঁউ।
সত্যি বলছো? সাগর আর আমি জিজ্ঞেস করি।
বিশ্বাস না হলে চলো আমার সঙ্গে গভীর জংগলে, গভীর রাতে। ভুত ধরে এনে বিদেশে রপ্তানি করলে মেলা ট্যাকা পাওয়া যাবে। শুধু ভয় পাচ্ছো তোমরা।
ঠিক আছে পাতলাদা- বলে ঈগল, আমি থাকবো তোমার ভুত ফার্মে।
গুড, ভেরী গুড। কাল রাত সাড়ে নটার দিকে আমার বাসায় চলে আসবি। তোদের নিয়ে গাড়িতে ভুতের এক কারখানায় যাবো।
ভুতের কারখানা?
হ্যাঁ, ত্ইু চমকে উঠছিস কেনো? পাতলাদা রেগে যায়। ভুতের জন্ম যেখানে হয়, সেটা কী কারখানা নয়? যেমন ধর গাড়ির কারখানা, কাপড়ের কারখানা, সিমেন্টের কারখানা। হয় না?
একশো বার হয়।
তাহলে এখন বাড়ি যা। হাই তোলে পাতলাদা। আমি ঘুমাবো।
সেই পরের রাতে আমরা এখন গভীর জংগলে ভুত খুঁজিতেছি। মি আকুল আর ব্যাকুল আমাদের আগে আগে। ওদের সামনে পাতলাদা। হঠাৎ শুনি কড় কড় চড় চড় শব্দ। জংগলের মধ্যে বিদ্যুৎ খেলে গেলো। পলকের মধ্যে দেখলাম পাতলাদাকে কে যেন অন্ধকারের মধ্যে আকাশের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পাতলাদা বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার করছে। কে কাকে বাঁচাবে? আমরা আমাদের বাঁচাতে সঙ্গে সঙ্গে এগারো ব্যাটারির টর্চ জ্বালিয়ে চারদিক ফকফকা আলোকিত করে ফেললাম। সঙ্গে সঙ্গে ফজরের আজান শুনতে পেলাম। মনে ভরসা পেলাম। রাত বেশি নেই। আমরা-আমি ভোমলা, সাগর, ঈগল, মি. ব্যাকুল আর মি. আকুল এক সঙ্গে একটা ঝাঁকড়া আম গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ঠক ঠক কাঁপছি।
মি. ব্যাকুল, তোমার ভুতের মন্ত্রণাটা বল-আমি বলি।
কেনো?
ভুত চলে যাবে।
আমি মন্ত্র ভুলে গেছি।
জংগলের ভেতর সাত সকালে এগারো ব্যাটারির টর্চের আলো দেখে পাশের থানা থেকে পুলিশ চলে আসে। আমাদের দেখে তাজ্জব।
তোমরা এখানে কী করছো? পাতলাদা কোথায়?
আমরা ভুত ধরতে এসেছি কিন্তু তাকে দেখছি না।
তাই নাকি?
হঠাৎ একজন পুলিশ তাকায় জাম গাছের দিকে। তাকে কে যেন বেঁধে জাম গাছ থেকে নিচের দিকে ঝুলিয়ে দিয়েছে। পাতলাদা ঝুলছে আর বাতাসে একটু একুট দুলছে। পুলিশ অফিসার দুইজন কনস্টেবলকে পাঠালো মই নিয়ে আসার জন্য। মই বেয়ে পাতলাদাকে উদ্ধার করতে হবে।
আমি আশপাশে তাকিয়ে মি. আকুল আর মি. ব্যাকুলকে দেখতে পেলাম না। মনে মনে বলি- ভুত ধরতে এসে নিজেরাই ভুতের কবলে পরেছি।