রূপকথা
Trending

সারস আর শেয়ালের গল্প

কামাল হোসাইন

সারস আর শেয়াল দুজন দোস্ত। একদিন শেয়াল দাওয়াত করল দোস্ত সারস পাখিকে। দাওয়াতের দিন শেয়াল খুব যত্ন করে পায়েস রান্না করল। রান্নাবান্না শেষে টেবিলের দু’পাশে রাখল দুটি থালা আর মাঝখানে রাখল পায়েসের বাটি। এরপর মনে মনে বলল : সারসভায়া জীবনেও এই ভোজের কথা ভুলবে না। উঃ আমার আর তর সইছে না, কখন যে দেখব মজাটা!
শেয়ালের ঘরের দরজায় টোকা পড়ল ঠিক এই সময়। শেয়াল মুচকি হেসে দরজা খুলে দিল। দেখল সারস তার লম্বা আর সরু ঠোঁটে হাসি হাসি মুখে হাজির। শেয়াল স্বাগত জানিয়ে বলল : আরে সারস ভায়া, এসো এসো, রান্নাবান্না সব তৈরি। আগে খাওয়া—দাওয়াটা সেরে নেই, তারপর বসে গপসপ করা যাবে।
পাশাপাশি খেতে বসল শেয়াল আর সারস। শেয়াল তার লম্বা জিভ দিয়ে সুড়–ৎ সুড়–ৎ করে চেটে চেটে থালার সব পায়েস শেষ করে ফেলল।
তবে সারস বেচারা তার ছুঁচালো লম্বা ঠেঁাটটা কয়েকবার থালায় ডোবাতে চাইল কিন্তু মুখে পায়েস উঠল না। এটা দেখে শেয়ালের মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠল। সারসকে জব্দ করতে পেরে তার খুশির যেন শেষ নেই।
সারস বুঝে ফেলল শেয়ালের চালাকি। তাই সারসও খানিকটা ভনিতা করে বলল : ‘এই যাঃ, শেয়ালভায়া! একটা কথা তো তোমাকে বলতেই ভুলে গেছি। আজ যে আমি উপোস। এইমাত্র কথাটা মনে পড়ল। তোমার পায়েস খেতে পারছি না বলে মনে কিছু করো না ভাই।’
সারস শেয়ালকে পরদিন তার বাড়িতে দাওয়াত দিল। আর কিছু সময় পর চলে গেল।
কথামতো পরদিন শেয়াল গেল সারসের বাড়ি। কিছু আলাপ—সালাপ করার জন্য শেয়াল আর সারস আরাম করে চেয়ারে বসল। টেবিলের দিকে তাকিয়ে শেয়ালের তো চোখ চকচক করে উঠল! টেবিলে সাজানো আছে দুটো সরু কলসি। সেটা কানায় কানায় ভরা। ভেতরে রয়েছে রসালো পায়েস। বাতাসে পায়েসের সুবাস ছড়িয়ে পড়ছে।
সারস শেয়ালকে বলল, ‘জানি, তুমি পায়েস খেতে ভালোবাসো। তাই আজ খুব যত্ন করে পায়েসই রাঁধলাম।’
এই বলে সারস কলসিতে তার লম্বা ঠোঁট ডুবিয়ে পায়েস খাওয়ায় মন দিল। কিন্তু শেয়াল বেচারা গোমড়ামুখে বসে রইল। তার তো আর সারসের মতো লম্বা—সরু ঠোঁট নেই। যে, কলসিতে তা ডুবিয়ে পায়েস খাবে! কিছু সময়ের ভেতর সারস সব পায়েস খেয়ে সাবাড় করে ফেলল।
এরপর ঢেকুর তুলে বলল, আরে! এ কী শেয়ালভায়া! তুমি তো কিছুই খেলে না। সব পায়েসই তো পড়ে রইল!
সারসের কথার শেয়াল কী জবাব দেবে ভেবে পেল না। সারসের সাথে সে যে খারাপ আচরণ করেছে তার জবাব পেয়ে লজ্জায় মাথা নিচু করে বসে রইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button