কালার ফেস্ট একটি ব্যক্তি উদ্যোগে সামাজিক সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা। নিজেদের আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্য নিয়ে এই কালার ফেস্টের আয়োজন। এবার ইদকে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সাথে ইদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে নিজ এলাকার প্রায় শতাধিক বিভিন্ন বয়সের বাচ্চাদের মাঝে নতুন জামাকাপড় বিতরণ করা হয়।
এ বিষয়ে কালার ফেস্টের সমন্বয়ক রাশেদুজ্জামান রন জানান, আমরা রমজানের বেশ কদিন আগে থেকেই অসহায় এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের তালিকা করেছি। আশপাশের কয়েকটা গ্রাম মিলে ১১০ জন শিশু পেয়েছি। তাদের বয়স প্রায় ৫ থেকে ১১ বছরের মধ্যে। এদের কাউকে কাউকে শার্ট, কাউকে গেঞ্জি, ফ্রক ইত্যাদি কিনে দিয়েছি। তিনি আরও বলেন, মানুষ যেন অল্প কিছু দিয়েই বাচ্চাদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে সেজন্যই এ আয়োজন। তাছাড়া আমাদের আশপাশে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করলেই ঈদ হবে রঙিন। তাই আনন্দ ভাগাভাগির এই উৎসবের নাম দিয়েছি ‘কালার ফেস্ট।’
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার শিচারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আমগাছের ছায়ায় শতাধিক বিভিন্ন বয়সের বাচ্চাদের নতুন জামাকাপড় পরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এ কালার ফেস্ট কর্মযোগ। নতুন জামাকাপড় পেয়ে বাচ্চাদের মুখে হাসি ফুটে ওঠে। নতুন কাপড় পেলে কে না খুশি হয়? তাই, কাপড় বিতারণ শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে যেই ছুটি বলে ঘোষণা আসে, ওমনি তারা ছুটে যায় তাদের বাড়ির দিকে। তাদের মনের যে আনন্দ তা ফুটে উঠে তাদের হাসিতে। তাদের হাসি দেখে প্রশান্তির এক তৃপ্তি আসে নিজেদের মধ্যেও। হয়তো ওরা বাড়িতে গিয়ে তাদের মাকে বলবে, মা, দেখো আমরা নতুন জামা পেয়েছি। সন্তানের উচ্ছলতা দেখে মায়ের মুখেও ফুটে উঠবে হাসির রেখা।
আয়োজক বলেন, আমরা চাইলে আমাদের আশপাশে সমস্যা সমাধানে ব্যক্তি পর্যায়ে এমন ছোট ছোট উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সামাজিক সমতাসহ আনন্দময় সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে পাড়ি। তাই বলব, বন্ধুরা তোমরাও নিজেদের আশপাশের সমস্যা চিহ্নিত করে গ্রহণ করতে পারো এমন দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগ। হোক তা যত ছোটই। মনে রাখতে হবে, ছোট ছোট একেকটা উদ্যোগের সমষ্টিগত ফল হবে হাজারো উদ্যোগ। আর অমন হাজারো উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবর্তন আসবে অনেক অনেক ক্ষেত্রে। আমরা পাবো একটা সুন্দর ও আনন্দময় দেশ।