
কাতারের তীব্র গ্রীষ্মকালীন উত্তাপের কারণে এই আসরটি ২০২২ সালের ২০শে নভেম্বর হতে ১৮ই ডিসেম্বর পর্যন্ত কাতারের ৫টি শহরের ৮টি মাঠে অনুষ্ঠিত হবে, যার ফলে এটি মে, জুন অথবা জুলাই মাসে অনুষ্ঠিত না হওয়া এবং উত্তর শরৎ কাল বা প্রায় শীতকালে অনুষ্ঠিত প্রথম আসর হবে। তবে, আমাদের দেশে শীতের মৌসুমে খেলা হলেও, আমাদের দেশের জনগণ কিন্তু বিশ্বকাপ উত্তেজনায় গরমই অনুভব করবে। ফুটবল বিশ্বকাপে আমাদের দেশের অংশ গ্রহণ না থাকলেও, আমাদের দেশের জনগণের বিশ্বকাপ নিয়ে মাতামাতি বিশ্বের অন্য সকল দেশের থেকে অগ্রগামীই বটে। এতে করে আনন্দের চেয়ে নিজেদের মধ্যে বিভেদ এবং তিক্ততার পরিস্থিতি তৈরি হয় বেশি। এই বোধগম্য টুকু কবে হবে যে, বিশ্বকাপ খেলা বড় মঞ্চের কঠিন প্রতিযোগিতা মূলক খেলা হলেও, এটি নিছক তো খেলাই। তাই, আমরা খেলা থেকে নির্মল আনন্দ নিতে পারি, বিনোদন নিতে পারি। কিন্তু খেলা ছলে বা খেলা কে কেন্দ্র করে দলাদলি, রেশারেশি, এমন কি নিজেদের মধ্যে হানাহানি করা কি বুদ্ধি মানের কাজ? তাতে করে কার লাভ, কার ক্ষতি? কোন পক্ষই এতে লাভবান হয় না; সব পক্ষই অর্থ, সময়, কথা এবং সম্পর্কের অপচয় করে নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই ডেকে আনে। হ্যাঁ, আমাদের নিজস্ব পছন্দ থাকতে পারে, কোন খেলোয়াড়ের প্রতি আলাদা ভালো লাগা থাকতে পারে। সেটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, সমালোচনা হতে পারে নিজেদের মধ্যে, কিন্তু তাহতে হবে ভদ্রতা, শালীনতা বজায় রেখে। আপনার—আমার প্রত্যেকের নিজের পছন্দ বা ভালো লাগার ক্ষেত্রে নিশ্চয় দূর্বলতা বা বিশেষ অনুরাগ থাকে। সেটা একান্তই যারযার নিজের বিষয়। এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা—সমালোচনা করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা মেনে চলা উচিৎ, তাই নয় কি ?
তানাকরে, অন্ধত্বের আচারণ বা মুর্খের মতো কেবল নিজের পছন্দের পক্ষে যারা আসবে তারাই ভালো আর অন্যেরা মন্দ। কিম্বা নিজের পক্ষের দল বা খেলোয়াড়—ই কেবল ভালো বা শ্রেষ্ঠ এমন আচারণ অন্ধত্বের বহিপ্রকাশ ছাড়া কিছুই না। একেক জনেরপছন্দ একেক রকম, খেলোয়াড়বা দল ভেদে খেলারধরণওভিন্ন। তাই, একে অপরেরপছন্দ বামতকে সম্মানের সাথে মেনে নেওয়া ভদ্রতা এবং মন্যুষত্বের পরিচায়ক। তাই, আসুন আমরা খেলা নিয়ে বিবাদে না জড়ায়। বরং, খেলার সৌন্দর্য উপভোগ করি। মাঠে যারা ভালো খেলবে, তাদেরই জয় হোক, তাতে জয় হবে ফুটবলের – ফুটবল প্রেমী হিসেবে অন্ধত্বের আচারণ না করে, অহেতুক উত্তেজনায় না ভুগে, আনন্দের সাথে খেলা উপভোগ করে সবাই মিলে ভালো থাকি।