
প্রতিভাবান মানুষরা তাদের কাজের মাধ্যমে চিরকাল সময়ের বুকে ছাপ রেখে চলছেন। আজও আমরা তাদের আবিষ্কার, উদ্ভাবন আর জ্ঞানের সুফল ভোগ করে চলছি। সেই সব প্রতিভাবান মানুষদের জীবনও কম রোমাঞ্চকর ছিল না। তাদের জীবনের নানা সময়ে ঘটে গেছে বহু বিচিত্র ঘটনা। বিশেষ করে তাদের শৈশবেই অনেক মজার ঘটনা ঘটেছিল যা তাদেরকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র বলে চিহ্নিত করেছিল।
ছোটবেলায় বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন নানা বিষয়ে কৌতুহলি ছিলেন। অনেক সময় তার আচরণ এতটাই খাপছাড়া দেখাতো যে প্রতিবেশীরা তাকে পাগল বলে মনে করতো। একবার তিনি বাড়ির কাজের ছেলেকে গ্যাস উৎপাদক রাসায়নিক পদার্থ খাইয়ে দিলেন। তিনি দেখতে চেয়েছিলেন, ছেলেটা ওড়ে কি না !
তিনি হাঁস বা মুরগীর ডিমে তা দিয়ে দেখতে চাইতেন ডিমগুলো ফুটে বাচ্চা বের হয় কি না। স্থানীয় চিকিৎসকরা মতামত দিয়েছিলেন, ছেলেটির ব্রেন টিউমার আছে। স্কুলের শিক্ষকরাও এডিসনকে নিয়ে হতাশা বোধ করতেন। তারা এডিসনকে ‘জড়বুদ্ধিসম্পন্ন’ আখ্যা দিয়েছিলেন। বলতেন, একে দিয়ে কিছুই হবে না। আমরা এখন জানি, এই পাগলাটে ছেলেটিই বড় হয়ে বৈদ্যুতিক বাতির আবিষ্কার করে পুরো পৃথিবীকে পাল্টে দিয়েছিল।
স্কুলে পড়ায় সময় আরেকজন বিজ্ঞানীর মধ্যে বিশেষ প্রতিভার বিচ্ছুরণ দেখা গিয়েছিল। তিনি হলেন চার্লস ডারউইন। স্কুলে পড়ার সময়েই তিনি শিখে ফেলেছিলেন, কোন গ্যাস কিভাবে বানিয়ে ফেলতে হয়। এজন্যে বন্ধুরা ঠাট্টা করে তার নাম দিয়েছিল ‘গ্যাস’।
সেই তুলনায় বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন ছিলেন বেশ শান্ত স্বভাবের। স্কুলের বন্ধুদের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘সৎলোক’ নামে। ক্লাসে স্যার পড়া ধরলে সঠিক উত্তরটি দেয়া ছাড়া অন্য কোনো কথা বলতেন না। এমনকি ভয় দেখালে বা পেটালেও তিনি মিথ্যা কথা বলতেন না।
ছেলেবেলায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রিয় খেলা ছিল ‘মাস্টারমশাই ও ছাত্র’। যদিও তিনি স্কুলে যেতে মোটেই পছন্দ করতেন না। তবে প্রতিদিন দুপুরে বাড়িতেই খুলে বসতেন কল্পনার স্কুল। সেই স্কুলে তিনি হতেন রাগী মাস্টার আর বারান্দার রেলিংগুলো হতো তার ছাত্র। পড়া না পারলে সেই ‘রেলিং’ ছাত্রদের বেত দিয়ে আচ্ছামতো পেটাতেন তিনি।
কল্পবিজ্ঞান লেখক হিসেবে জনপ্রিয় জুলভার্ন শৈশবে একবার বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন। গোপনে কাজ নিয়েছিলেন জাহাজে। তার ইচ্ছে ছিল, জাহাজে চড়ে সারা পৃথিবী ঘুরে বেড়াবেন। কিন্তু জাহাজটি বন্দর ছেড়ে বের হবার আগেই বাবার হাতে ধরা পড়ে যান তিনি। তাকে প্রতিজ্ঞা করতে হয়, বাড়ি ছেড়ে আর কখনো পালাবেন না। এই কথা আজীবন পালন করেছেন তিনি। জীবনে ফ্রান্সের বাহিরে কোথাও যাননি। বড় হয়ে তার লেখার ভেতর দিয়েই ভ্রমণ করেছেন গভীর সাগরতল থেকে মহাশূন্য পর্যন্ত। শৈশবে ঘরছাড়া হলে আমাদের জন্য কল্পবিজ্ঞানের রোমাঞ্চকর কাহিনীর রাজ্য হয়তো অনিশ্চিত হয়ে পড়তো।